রাজনৈতিক দলে অনুদান: ভুল হলে কেলেঙ্কারি

আয়কর বিভাগের নজরে এমন করদাতারা রয়েছেন যাঁরা কমপক্ষে 20টি রাজনৈতিক দলকে অনুদান দিয়েছেন। এই রাজনৈতিক দলগুলি রেজিস্টার্ড।

যাঁরা আয়কর ফাঁকি দেন ও ছোট রাজনৈতিক দলকে অর্থসাহায্য করে থাকেন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে আয়কর বিভাগ। বাণিজ্যিক দৈনিক দ্য ইকোনমিক টাইমস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় 5 হাজার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী দিনে, আরও করদাতা এই ধরণের নোটিশ পেতে পারেন। চলুন দেখা যাক কীভাবে অজানা রাজনৈতিক দলকে অনুদান দিয়ে কর ফাঁকির এই পুরো খেলাটি খেলা হচ্ছে। আয়কর কীভাবে এর বিরুদ্ধে কাজ করছে…

আয়কর বিভাগ বেশ কিছু করদাতাদের নোটিশ পাঠিয়েছে যাঁরা রেজিস্টার্ড কিন্তু স্বীকৃত নয় এমন রাজনৈতিক দলকে অনুদান দিয়েছেন। এই নোটিশগুলি 2020-21 এবং 2021-22 অর্থবর্ষের জন্য পাঠানো হয়েছে। আয়কর দপ্তর জানতে চায় ছোট ও অজানা দলগুলিকে দেওয়া এই অনুদানের উদ্দেশ্য কর ফাঁকি ও টাকা পাচার কিনা।

আয়কর বিভাগের নজরে এমন করদাতারা রয়েছেন যাঁরা কমপক্ষে 20টি রাজনৈতিক দলকে অনুদান দিয়েছেন। এই রাজনৈতিক দলগুলি রেজিস্টার্ড। কিন্তু তাঁরা নির্বাচন কমিশন থেকে স্বীকৃতি পায়নি। রাজনৈতিক দল স্বীকৃতি না পাওয়ার অর্থ, তাঁরা আইনসভা বা জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি।

আয়কর বিভাগের সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে কারণ করদাতাদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে এই টাকা দেওয়া সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আয়কর বিভাগ সন্দেহ করছে যে এই দলগুলি কিছু টাকা নিজেরা রেখে বাকি টাকা নগদে ওই ব্যক্তিদের ফেরত দিয়েছে। একে bogus donation বলা হয়। কিছু ক্ষেত্রে করদাতারা তাঁদের আয়ের 80 শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন দলকে অনুদান হিসাবে দিয়েছেন। যেগুলি সঠিকভাবে registered-ও নয়।

ধরুন একজন করদাতার মোট আয় 10 লক্ষ টাকা। তিনি একটি রাজনৈতিক দলকে 2 লক্ষ টাকা ডোনেশন দিয়েছেন, তাহলে তিনি 2 লক্ষ টাকা করছাড় ক্লেম করতে পারেন। এটি একটি স্বাস্থ্যকর ট্যাক্স সেভিংস ব্যবস্থা। কিন্তু কেউ যদি উপার্জন করেন 10 লক্ষ টাকা এবং 8 লক্ষ টাকা দান করেন, তাহলে আয়কর বিভাগের সন্দেহ হবেই। অনেক সময় সত্যিকারের করদাতারাও আয়কর নোটিশ পান।

আয়কর আইনের ধারা 80GGC, রাজনৈতিক দলগুলিকে অনুদান দেওয়ার জন্য কর ছাড় দিয়ে থাকে। এই বিধানের অধীনে, যদি কোনও ব্যক্তি রাজনৈতিক দল বা নির্বাচনী ট্রাস্টকে অনুদান দেন, তবে তাঁরা অনুদানের 100 শতাংশ করছাড় দাবি করতে পারেন। তবে, একজন ব্যক্তির দেওয়া মোট রাজনৈতিক অনুদান, যা কর ছাড়ের সমান, কোনওভাবেই তাদের মোট আয়ের চেয়ে বেশি হওয়া উচিত নয়। কোম্পানিগুলি অবশ্য রাজনৈতিক অনুদানের জন্য ধারা 80GGB-র অধীনে কর ছাড় ক্লেম করতে পারে।

করছাড়ের কিছু শর্ত রয়েছে। প্রথমত, অনুদান গ্রহণকারী রাজনৈতিক দলকে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, 1951-এর ধারা 29A এর অধীনে রেজিস্টার্ড হতে হবে। দ্বিতীয়ত, অনুদানটি ক্যাশ বা kind-এ হওয়া উচিত নয়

রাজনৈতিক অনুদান সত্যিই হয়েছে কিনা, আয়কর বিভাগ তার প্রমাণ চাইতে পারে। সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে, ব্যক্তিকে ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী ছাড় পাওয়া পরিমাণের উপর কর দিতে হবে। দেরিতে টাকা দিলে সুদ দিতে হবে। আয়ের ভ্রান্ত হিসাব পেশ করার জন্য 270A ধারার অধীনে জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। আয় কম দেখালে জরিমানা হিসাবে যত পরিমাণ আয় লুকনো হয়েছে তার উপর করের 50 শতাংশ দিতে হবে। ভুল হিসাব রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে জরিমানার মাত্রা 200 শতাংশ।

একটি রাজনৈতিক দলকে অনুদান দেওয়ার সময়, করদাতাদের তার রেজিস্ট্রেশন শংসাপত্র চাইতে হবে। এটি নির্ধারণ করবে যে রাজনৈতিক দলটি জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের 29A ধারার অধীনে রেজিস্টার্ড কিনা। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট eci .gov.in- এ রেজিস্ট্রেশন ভেরিফাই করা যেতে পারে। আপনি যে দলটিকে অনুদান দিচ্ছেন সেটি রেজিস্টার্ড কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তালিকাভুক্ত কিনা তাও পরীক্ষা করতে পারেন। দলের প্যান কার্ডও পেতে হবে। উপরন্তু, পার্টিকে অনুদানের ক্ষেত্রে একটি রশিদ নিন যেখানে পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। চেক, ডিমান্ড ড্রাফ্ট, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং ইত্যাদির মাধ্যমে অনুদানের টাকা দিন। এর সুবিধা হল যদি একটি নোটিশ পাওয়া যায়, তাহলে করদাতা তা প্রমাণ হিসাবে পেশ করতে পারেন।

কর সাশ্রয় এবং কর ফাঁকির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভাগ রয়েছে। এটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ, যদি আপনার লেনদেন বৈধ হয় তাহলে একটি রাজনৈতিক দলকে দেওয়া অনুদান কর বাঁচানোর উপায় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যদি অনুদান জাল হয়, তাহলে কেবল করছাড়ই প্রশ্ন মুখে পড়ে না, সুদ এবং জরিমানা-সহ মোটা কর আরোপ লাগু হতে পারে।

Published: March 6, 2024, 13:44 IST

পার্সোনাল ফাইনান্স বিষয়ের সর্বশেষ আপডেটের জন্য ডাউনলোড করুন Money9 App