Cyber slavery: বিদেশে বন্দি হয়ে ভারতে প্রতারণা

এই ধরণের জালিয়াতির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। সাইবার জালিয়াতির পাশাপাশি Cyber Slavery নতুন আতঙ্কের রূপ নিয়েছে।

মোহন গাজিয়াবাদে থাকেন। কয়েকদিন আগে তাঁর কাছে একটা unknown নাম্বার থেকে ফোন কল আসে। পুলিশ পরিচয় দিয়ে কলার বলেন, তিনি থানা থেকে ফোন করছেন। মোহনের মেয়ে ও তাঁর এক বন্ধুর নাম ড্রাগ কেসে জড়িয়েছে। একথা শুনে মনোজের মাথায় যেন বাজ পড়ে! এমন সময় যিনি ফোন করেছেন তিনি মোহনের কাছে ব্যপারটা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন। নাহলে মোহনের মেয়ে বড় বিপদে পড়বেন বলে হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে, আর কোনও কিছু না ভেবে মোহন সঙ্গে সঙ্গে 30,000 টাকা পাঠিয়ে দেন।

এই ধরণের জালিয়াতির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। সাইবার জালিয়াতির পাশাপাশি Cyber Slavery নতুন আতঙ্কের রূপ নিয়েছে। এখন প্রশ্ন হল cyber slavery কী এবং কীভাবে জালিয়াতরা মানুষকে ফাঁদে ফেলছেন? আসুন জেনে নেওয়া যাক এই প্রতিবেদনে।

Cyber slavery-র অর্থ হল কাউকে পণবন্দী করে সাইবার জালিয়াতি করতে বাধ্য করা। Cyber slavery-র বেশ কিছু ঘটনা সম্প্রতি সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষত পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে এমন ধরণের দুর্নীতির বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে। এখানে কম্বোডিয়ার উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে কম্বোডিয়ায় পাঁচ হাজারেরও বেশি ভারতীয়কে পণবন্দী করে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের বাধ্য করা হয়েছে ভারতের বাসিন্দাদের সঙ্গে সাইবার জালিয়াতি করতে। মনে করা হচ্ছে যে এই দুষ্কৃতীরা গত ছ’মাসে ভারতের লোকজনের থেকে কমপক্ষে 600 কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

চাকরির খোঁজে অনেকে বিদেশে পাড়ি দেন। সাধারণত তাঁরাই cyber slavery-র সবথেকে বেশি শিকার হন। ডেটা এন্ট্রির মতো সাধারণ কাজের টোপ দিয়ে এজেন্টরা প্রথমে তাঁদের বিদেশে নিয়ে যায়। এর পরে তুলে দেওয়া হয় সাইবার অপরাধীদের কাছে। এভাবে চাকরির খোঁজে বিদেশে গিয়ে হাজার হাজার যুবক-যুবতী cyber slave-এ পরিণত হন।

তাঁদের বাধ্য করা হয় ভারতে বসবাসকারী লোকজনকে সাইবার জালিয়াতির শিকার করতে। মোহন যে ফোনকলটি পেয়েছেন তা সম্ভবত cyber slavery-র শিকার ব্যাক্তির দ্বারা করা হয়েছিল। কারণ নানা তথ্য ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে যে ভারতে সাইবার জালিয়াতির অনেত ঘটনার সঙ্গে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে।

cyber slavery-র শিকার কিছু ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে সরকার। কিন্তু অধিকাংশ ব্যক্তি এখনও বিদেশে পণবন্দি আছেন। সাইবার অপরাধীদের চক্র থেকে উদ্ধার হওয়া একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন যে কীভাবে তাঁদের অপরাধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাঁকে প্রোফাইল পিকচারে মহিলার ছবি দিয়ে ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে বলা হয়েছিল। এরপর তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেসম্ভাব্য টার্গেট স্থির করতে করতে বলা হয়েছিল এবং জাল কল করতে বাধ্য করা হয়েছিল। প্রতারণা চক্রের কথামতো কাজ না করলে তাঁকে খেতে দেওয়া হত না এবং মারধর করা হত। এমনকী তাঁকে ইলেকট্রিক শক পর্যন্ত দেওয়া হত বলেও জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি।

এমন পরিস্থিতিতে সাইবার স্লেভদের পাতা ফাঁদ পা না দেওয়া খুব জরুরি। এজন্য সতর্কতা খুব জরুরি। যে কারণে কোনও অজানা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। একদম বিশ্বাস করবেন না কোনও অজানা কলারকে। সতর্কভাবে ব্যাবহার করুন সোশ্যাল মিডিয়া। আর কেউ এমার্জেন্সি সিচুয়েশন ক্রিয়েট করলে আরও বেশি সতর্ক হয়ে যান। কেউ নিজেকে পুলিশ বলে দাবি করে, তাঁর নাম, ডেজিগনেশন, কোন থানা থেকে ফোন করছেন ইত্যাদি নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। তাঁর দেওয়া তথ্য ক্রস-চেক করুন।
মোটেও আতঙ্কিত হবেন না। আপনি যত বেশি আতঙ্কিত হবেন, প্রতারকরা তত আপনার ঘাড়ে চেপে বসার চেষ্টা করবে।
প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তাই সতর্ক থাকুন। সচেতন থাকুন।

Published: April 30, 2024, 13:17 IST

পার্সোনাল ফাইনান্স বিষয়ের সর্বশেষ আপডেটের জন্য ডাউনলোড করুন Money9 App